দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্টিফিক আমেরিকান’-এর ‘বিজ্ঞানের উদীয়মান তারকা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী ড. তনিমা তাসনিম অনন্যা। অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর ও গ্যালাক্সির সক্রিয় কেন্দ্র নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তাকে সাময়িকীটির প্রথমবারের মতো প্রকাশিত ‘ইয়াং আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন শাখা থেকে নির্বাচিত মাত্র ২৮ জন সম্ভাবনাময় তরুণ গবেষকের মধ্যে স্থান পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান অঙ্গনে এটি বাংলাদেশের জন্য গৌরবজনক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ড. তনিমা তাসনিম অনন্যা বিএনপির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুমের জ্যেষ্ঠ কন্যা। তার এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে পরিবার, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের পাশাপাশি দেশের বিজ্ঞানমনস্ক মহলে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছে।
উনিশশো পঁয়তাল্লিশ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘সায়েন্টিফিক আমেরিকান’ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরোনো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত বিজ্ঞান সাময়িকী। এ সাময়িকীতে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি পাঠকের কাছে পৌঁছানো এই সাময়িকী চলতি বছর প্রথমবারের মতো এ ধরনের একটি তালিকা প্রকাশ করল, যেখানে ভবিষ্যতের বিজ্ঞান নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন এমন তরুণ গবেষকদের স্থান দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েইন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ড. তনিমা তাসনিম অনন্যা মহাবিশ্বের অন্যতম রহস্যময় বস্তু কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় হলো, অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর কীভাবে আশপাশের গ্যাস ও পদার্থ শোষণ করে এবং সেই প্রক্রিয়া গ্যালাক্সির গঠন, বিকাশ ও বিবর্তনে কী প্রভাব ফেলে।
‘সায়েন্টিফিক আমেরিকান’-এ প্রকাশিত তার পরিচিতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকায় বেড়ে ওঠা তনিমার মহাকাশের প্রতি আগ্রহের সূচনা হয় শৈশবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় আকাশভরা তারা দেখে মহাবিশ্ব নিয়ে তার গভীর কৌতূহল জন্ম নেয়, যা পরবর্তীতে তাকে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় নিয়ে যায়।
তার গবেষণায় বিভিন্ন মহাকাশ পর্যবেক্ষণ তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশের গ্যাস ও ধূলিকণার গঠন এবং আচরণ সম্পর্কে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এ গবেষণা মহাবিশ্বের বিবর্তন, গ্যালাক্সির বিকাশ এবং কৃষ্ণগহ্বরের কার্যপ্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে সক্ষম হতে পারে।
বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ড. তনিমা তাসনিম অনন্যার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি মেধা ও গবেষণা সক্ষমতার একটি উজ্জ্বল স্বীকৃতি। তাঁর এ সাফল্য দেশের নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান গবেষণায় অনুপ্রাণিত করবে বলেও তাঁরা মনে করছেন।
মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনে তার গবেষণা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ড. তনিমা তাসনিম অনন্যার এই অর্জন বাংলাদেশের বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণার জন্য একটি ইতিবাচক ও গর্বের বার্তা হয়ে থাকবে।
জে আই